নতুন দল নতুন পরীক্ষা

এখনো ঘুরেফিরে বিশ্বকাপের ,পারফরম্যান্স নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। পাকিস্তান শিরোপা না জিতলেও দুর্দান্ত খেলেছে। তারা প্রথমবারের মতো, ভারতকে হারিয়েছে। সর্বোচ্চ রান করেছেন

অধিনায়ক বাবর আজম। পাকিস্তানের সেই দলটাই এসেছে, বাংলাদেশে। একদিন পরেই শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ। এই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কেমন করবে, নতুন বাংলাদেশ দল?

পাকিস্তান বিশ্বকাপের অপরিবর্তিত দল নিয়েই ,এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশ দলে ঘটে গেছে রীতিমতো বিপ্লব! বিশ্বকাপে খেলা দলের অর্ধেক, ক্রিকেটার নেই। সিনিয়রদের মধ্যে দলে রয়েছেন কেবলমাত্র অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

ইনজুরির কারণে নেই সাকিব আল, হাসান ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। বাজে পারফরম্যান্সে বাদ পড়েছেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। বিশ্বকাপ ,দলে থাকা রুবেল হোসেনও নেই। আর মুশফিকুর

রহিমকে টেস্ট সিরিজের কথা, বিবেচনা করে টি-২০ সিরিজে রাখা হয়েছে বিশ্রামে। তবে তারকা ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়ার জন্য এটা একটা ,ভদ্র শব্দ হচ্ছে এই ‘বিশ্রাম’!

অভিমানের কারণে বিশ্বকাপ থেকে নিজেকে, সরিয়ে নিয়েছিলেন ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবাল। পাকিস্তান সিরিজেও নেই তিনি। সংযুক্ত আরব, আমিরাতে বাংলাদেশের বাজে পারফরম্যান্সের এক বড়

কারণ ছিল ওপেনিং জুটির হতাশাজনক ,পারফরম্যান্স। অন্য দলে যেখানে ওপেনারদের দাপটে পাওয়ার প্লেতে বড় স্কোর করে প্রতিপক্ষকে বিপদে ,ফেলে সেখানে বাংলাদেশ উল্টো ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের দ্রুত হারিয়ে পড়ে যায় মহাসংকটে! এমন ,পরিস্থিতিতে

এই সিরিজেও তামিমের অনুপস্থিতি যে, দলকে ভোগাতে পারে-তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে দলে সুযোগ, পেয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন মুখ। এমন দল নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে নামাটা কোচ রাসেল ,ডমিঙ্গোর জন্য একটা বড় পরীক্ষা। অবশ্য এই পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়া ছাড়া

কোনো উপায়ও ছিল না ,প্রোটিয়া কোচের হাতে। কারণ, এখন সিরিজ জয়ের চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে পরের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ,কথা মাথায় রাখতে হবে। খেলতে খেলতে এই অনভিজ্ঞ দলটাই অভিজ্ঞতা অর্জন করে বিশ্বকাপের ,আগে দুর্দান্ত এক দলে পরিণত হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর বাংলাদেশ দলের সামর্থ্য, নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দলের ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা নিয়ে অনেক ,কথা হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচেই ক্রিকেটারদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ

দেখে মনে হয়েছিল যেন পরাজয় মেনে নিয়েই ,তারা মাঠে নামছেন। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স ও সামর্থ্য নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে, সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন আইসিসি ধারাভাষ্যকার ও

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার দীপ দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দলে প্রধান সমস্যা মাঠে ক্রিকেটাররা বেশ ভয়ে ভয়ে ছিলেন। সবাইকে দেখে ,মনে হয়েছে, তারা জিততে মাঠে নামেনি।

যেন হারতে না হয় এ জন্য খেলতে নেমেছে। কিন্তু এভাবে, তো টি-২০ ক্রিকেট চলে না। টি-২০তে খেলতে হবে বীরের মতো। মনে ভাবনা থাকবে, জিতবই। তারপর, হারজিত

তো আছেই।’

বিশ্বকাপের চাপ নিতে না পেরে বেশ ,কয়েকটি সহজ ম্যাচেও হেরেছে বাংলাদেশ। ওই ভরাডুবির পর ঘরের মাঠে পাকিস্তান সিরিজের জন্য স্কোয়াডে, রীতিমতো বিপ্লব ঘটানো হয়েছে। বেশকিছু তরুণকে সুযোগ করে

দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, জয়ী দলের অধিনায়ক আকবর হোসেনও প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন। তারুণ্যনির্ভর এই দলটি, এখন কেমন করে সেটাই প্রশ্ন।

তবে এটা তো ঠিক যে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ, দল যতটা খারাপ করেছে এর চেয়ে বেশি খারাপ তো আর হবে না। বরং নতুনদের নিয়ে পরীক্ষা চালানোর, এই যেন সেরা সময়!

১৬ সদস্যের দল ঘোষণার পরদিন, মানে গতকাল ,অনুশীলন করেছেন ক্রিকেটাররা। এই দলটা তুলনামূলক অনভিজ্ঞ হলেও বিশ্বকাপের ভরাডুবি ,ভুলিয়ে দিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের জন্য তারা বদ্ধপরিকর! তারুণ্যনির্ভর এই দল কতটা ,ভালো খেলবে তা প্রথম ম্যাচের পরই অনেকটা বোঝা যাবে।

ঘরের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে ‘উইকেট’। বিশ্বকাপের, আগে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশ সিরিজে হারিয়েছিল স্লো ও স্পিন উইকেট বানিয়ে। এবার, মিরপুরে কেমন উইকেট বানানো হয় সেটাও একটা বড় প্রশ্ন!

পাশাপাশি এ কথা মনে রাখা জরুরি যে, পাকিস্তান উপমহাদেশের, দল। তাদের বিরুদ্ধে স্লো ও স্পিন উইকেট বানিয়ে খুব একটা লাভ হবে না বলে মনে করেন, ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। তা ছাড়া ক্রিকেটাররাও

চাচ্ছেন, বিসিবি যেন স্পোর্টিং উইকেট বানায়। প্রথম, প্রথম কষ্ট হলেও বৈশ্বিক আসরগুলোতে তা বেশ কাজে দেবে। পরের বছরই ,আরেকটি টি-২০ বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে

টি-২০ উইকেট সব সময়ই স্পোর্টিং হয়ে থাকে। প্রতি ম্যাচেই বড় স্কোর হয়। তাই ,বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে হলে স্পোর্টিং উইকেটে খেলার কোনো বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.