সিনিয়র-জুনিয়র, কিছু নেই, সবারই সামর্থ্য আছে: শান্ত

বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা দুই ওপেনার, লিটন দাস, সৌম্য সরকার বাদ। তিন নম্বরে খেলা সাকিব ইনজুরিতে পড়ে বাইরে। আর মিডল অর্ডার, মুশফিকুর রহিমও নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের টপ অর্ডারের পুরোটাই, প্রায় নতুন। অনভিজ্ঞ।

টপ অর্ডার ব্যাটিং পজিশনে বিশ্বকাপ খেলে, আসা দলের নাইম শেখই শুধু আছেন। সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, সাইফ হাসান আর, ইয়াসির আলী রাব্বি।

দলে আরও ক্রিকেটার থাকলেও বোঝাই যাচ্ছে, টপ অর্ডারে নাইম শেখের সঙ্গে হয় নাজমুল হোসেন শান্ত না হয় সাইফ হাসানকেই দেখা যাবে। মানে শান্ত ,আর সাইফের একজন সম্ভাব্য ওপেনার। অন্যজন নাম্বার থ্রি।

দুই পরিণত, প্রতিষ্ঠিত ওপেনার লিটন, দাস-সৌম্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে খেলে পরিপক্ক হওয়া সাকিব-মুশফিকের অনুপস্থিতিতে এই তরুণদের, সত্যিকার ব্যাটিং সামর্থ্য কতটা? তারা কি শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রচন্ড গতি আর ইয়র্কার, হাসান আলির, সুইং আর হারিস রউফের টাইট বোলিং সামলাতে পারবেন?

বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থকদের এ কৌতুহলি প্রশ্নের, জবাব দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে লাল-সবুজ জাতীয় দলে ফেরা, নাজমুল হোসেন শান্তর আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ, এখানে সিনিয়র বা জুনিয়র বলে কিছু নেই। এখানে সবাই, সামর্থ্যবান বলে আমরা আছি। প্রত্যেকেরই দায়িত্ব আছে। যার যে দায়িত্ব সবারই ওটা সমানভাবে ,পালন করতে হবে। সবারই সেই সামর্থ্য আছে।

শান্ত বলেন, ‘আমরা এখানে যারা আছি প্রত্যেকেই, সামর্থ্যবান। প্রত্যেকটা ব্যাটসম্যানই দায়িত্ব নিয়ে খেলার মতো।’

বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থ হলেও ব্যাটার লিটন দাস, আর সৌম্য সরকার দুজনই হাত খুলে খেলতে অভ্যস্ত। শট খেলায়ও পারদর্শি যথেষ্ঠ। তাদের, অনুপস্থিতিতে শান্ত-সাইফরা কতটা হাত খুলে খেলতে পারবেন? এ সংশয়মাখা প্রশ্ন আছে অনেকেরই।

শান্তর দাবি, তিনি প্রথম বল থেকে আগ্রাসী ,মেজাজেই খেলবেন। তাই তার কথা, ‘সাধারণত টি-টোয়েন্টি অবশ্যই রানেরই খেলা। আমি যখনই খেলি ,আমার লক্ষ্য থাকে আক্রমণাত্মক ক্রিকেটই খেলব। চিন্তা থাকে প্রথম বল থেকেই আগ্রাসী ,মেজাজে থাকব। তার মানে এই না যে প্রতি বলেই মারতে থাকব। অবশ্যই বল বিচার করে খেলব।’

পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার বিপিএলে ,খেলেছেন। যাদের সঙ্গে এক দলে খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। সেটাকে,আত্মবিশ্বাসের দাওয়াই বলে মন্তব্য করেছেন শান্ত।

‘ওদের (পাকিস্তানের) বেশ কয়েকজনের ,সঙ্গে খেলার সুযোগ হয়েছে। ওই দিক থেকে আমরা একটু আত্মবিশ্বাসী যে ওই বোলারদের মোকাবেলা ,করেছি বা ওই ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে বল করেছি। এই সুযোগ আছে।’

পাকিস্তানী বোলারদের নিয়ে চিন্তা না করে তাদের ,বল দেখে খেলার কথাই ভাবছেন শান্ত। আমরা জাস্ট বল দেখব, খেলব। অতো বেশি চিন্তার কিছু নেই ,আমরা যেটা পারি ওই জিনিসটা করব।’

ব্যাটিং সব সময় অনেক আনন্দের, মন্তব্য করে, শান্ত বলেন, ‘ওই চিন্তা করে যদি মাঠে ব্যাট করতে পারি তাহলে স্বাভাবিকভাবে ব্যাটিং ভাল হবে। যেখানেই ব্যাটিং করি যদি উপভোগ করি তাহলে ভাল হবে।’

শান্তর দাবি, তারা নিজেরা ভাল ফিল্ডার। সে,কারণেই তার মনে বাংলাদেশ এখন ভাল ফিল্ডিং সাইড। ‘ফিল্ডিংয়ের ব্যাপার নিবেদনের একটা বিষয়। আমরা ,যারা এখানে ফিল্ডার আছি, খুব ভাল একটা ফিল্ডিং দল। সবাই আমরা একসঙ্গে খেলেছি। এইচপি হতে, পারে বা এ দলে হতে পারে। ফিল্ডিং জিনিসটা হলো অনেক উপভোগ করার ব্যাপার বা নিবেদনের, ব্যাপার। আশা করি আমরা আগে যা করে এসেছি সেটাই এখানে করব এবং ফিল্ডিংটা সবাই উপভোগ, করে। আশা করছি ভাল হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.